করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি, পৃথিবী থেকে এবার নির্মূল হবে করোনা
করোনাভাইরাস নিছক সাধারণ কোন ভাইরাস নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জিনের গঠন বদলে প্রতিনিয়ত এই ভাইরাস নিজের চরিত্রই বদলে ফেলছে। এই ভাইরাসের বিশেষ স্ট্রেন সার্স-সিওভি-২-এর স্পাইক প্রোটিন জোড় বাঁধছে মানুষের শরীরের বিশেষ জিনের সঙ্গে।

বাহক কোষ বা হোস্ট সেলের সাহায্যেই আরও সংক্রামক হয়ে উঠছে করোনা। এতো বেশি নিজেকে বদলাচ্ছে এই ভাইরাস যে এর মতিগতি বোঝাই অসম্ভব হয় পড়ছে বিশ্বের বাঘা বাঘা ভাইরোলজিস্টদের কাছে।
সংক্রমণ রোখার ভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়াও তাই বিলম্বিত হচ্ছে। তবে আশার আলো এটাই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, ইজরায়েল এমনকি ভারতেও এই মারণ ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার উপায় আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানী-গবেষকরা। কাজও নাকি এগোচ্ছেও তরতরিয়ে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নোভেল করোনার সংক্রমণকে ‘প্যানডেমিক’ বা বিশ্বজোড়া মহামারি ঘোষণা করেছে। চীনে এখন ভাইরাস সংক্রামিত লাখের বেশি, মৃত্যু হয়েছে সাড়ে তিন হাজারের বেশি। চীনের পরেই করোনা মহামারি সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে ইতালি ও ইরানে। ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল, ব্রিটেন, আমেরিকাতেও প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা।
ডব্লিউএইচও’র রিপোর্ট বলছে, বিশ্বে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মতের সংখ্যা ৬ হাজার ৫২৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ১ লাখ ৬৯ হাজার।
আমেরিকা দাবি, আজ থেকেই তারা করোনাভাইরাসে রোখার ভ্যাকসিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু করেছে। ভাইরাসকে নির্মূল করার জন্য কোমর বেঁধে নেমেছেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা। জোরদার কাজ চলছে ইসরায়েল, চীন এমনকি ভারতেও।
ভ্যাকসিন তৈরির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর কথা জানিয়ে মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেল্থ (এনআইএইচ) সোমবার প্রেস বিবৃতি জারি করে বলেছে, ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরিই আছে। আজ থেকেই তার ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হবে। প্রথমে ইঁদুরের উপর ও পরে মানুষের উপর প্রয়োগ করা হবে।
সিয়াটেলের কাইসার পার্মানেন্ট ওয়াশিংটন হেল্থ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষকরা বলেছেন, ভ্যাকসিন এখনও পরীক্ষামূলক স্তরেই আছে। আরও ১৮ মাস সময় লাগবে পুরোপুরি এই ভ্যাকসিনকে বাজারে আনতে। তার আগে নিরন্তর এর ট্রায়াল চলবে।
কুইনসল্যান্ড ইউনিভার্সিটির গবেষক কেইথ চ্যাপেল বলেছেন, ২৫০টি ভ্যাকসিনের ফর্মুলা বানানো হয়েছিল ল্যাবে। তার থেকেই ট্রায়ালে এস-স্পাইক ভ্যাকসিনকেই করোনা-রোধের আদর্শ ওষুধ হিসেবে মনে হয়েছে বিজ্ঞানীদের। চ্যাপেল বলেছেন, এই বছরের মাঝামাঝি মানুষের উপর প্রয়োগ করা যাবে এই ভ্যাকসিন।
কী এই ‘এস-স্পাইক’ ভ্যাকসিন? অধ্যাপক এবং গবেষক মুনরো জানিয়েছেন, করোনার সংক্রামক রোগ কোভিড-১৯ এর সঙ্গে একদিকে যেমন মিডল ইস্ট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম (মার্স)-এর মিল আছে, তেমনি কিছুটা হলেও মিল আছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সঙ্গে।
এই ভাইরাল স্ট্রেনের কাজই হল হোস্ট সেলের প্রোটিনের সঙ্গে জুটি বেঁধে কোষে এন্ট্রি নেয়া। ফুসফুসের দফারফা করে একে একে শরীরের নানা অঙ্গ বিকল করা। তাই গোড়াতেই যদি মোক্ষম আঘাত হানা যায় অর্থাৎ, ভাইরাল প্রোটিনকেই রুখে দেওয়া যায় তাহলে সে আর বাহক প্রোটিনের সঙ্গে জোট বাঁধতে পারবে না।
নতুন এই ড্রাগে রয়েছে ল্যাবে বানানো পলিপেপটাইড অর্থাৎ অ্যামাইনো অ্যাসিডের সিকুয়েন্স যা ভাইরাল প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেবে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াবে।
এদিকে বাংলাদেশে আরো দুইজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশে এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০জন।

নতুন আক্রান্ত দুজনের একজন আগে থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। অপরজন একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এদের মধ্যে একজন বিদেশ থেকে এসেছেন, আরেকজন বিদেশ ফেরত একজন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছিলেন।
তাদের সবাই বিদেশ ফেরত অথবা তাদের সংস্পর্শে এসেছেন বলে বলছে আইইডিসিআর।
নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলছেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত স্থানীয় বা সামাজিক সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৪৩জন আর ১৬জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
মীরজাদী সেব্রিনা বলছেন, ”আমরা আবারো বলছি, পারিবারিকভাবে খুব শক্তভাবে আমাদের কোয়ারেন্টিন পালন করতে হবে। কারণ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আমরা সংক্রমণ দেখতে পাচ্ছি।”

