কাশিমনগরে দিনে দুপুরে ডাকাতি: দৃষ্টি প্রতিবন্ধিকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম
নিজস্ব প্রতিনিধি:
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কাশিমনগরে দিনে দুপুরে ডাকাতি করতে গিয়ে এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধিকে কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

কাশিমনগর গ্রামের গাজী পাড়ায় গত সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১২টার সময় দুর্ধর্ষ এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাশিমনগর গ্রামের রহমত আলী গাজী ও তার স্ত্রী মরিয়াম বেগম বাড়িতে না থাকার সুযোগে আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ সরদারের পুত্র এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডাকাত মোস্তফা কামাল সরদার (৫৪) কতিপয় অজ্ঞাত সন্ত্রাসী শ্রেণীর লোকজন নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রহমত আলীর বাড়িতে ডাকাতি করতে যায়।
দুর্ভাগ্যক্রমে রহমত আলীর দুই ছলে বাড়িতে রয়েছে তা ডাকাত দলটির জানা ছিল না। মোস্তফা কামাল তার লোকজন নিয়ে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে রহমত আলীর বড় ছেলে ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জি,এম আজিমুদ্দীনের দৌহিত্র দৃষ্টি প্রতিবন্ধি আব্দুর রহমান বাদশাকে (১৭) দেখে তার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে উপহাস করতে থাকে এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ঘরের ভিতর প্রবেশ করতে চেষ্টা করে।
এসময় বাদশা তাকে জাপটে ধরে এবং ঘরের ভিতর প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু ডাকাত মোস্তফা কামাল তার বাধার তোয়াক্কা না করে তাকে বলপ্রয়োগে সেখান থেকে ফেলে দেয় এবং তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাদশার মাথায় আঘাত করে।
এতে বাদশার মাথায় গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
বাদশার আত্মচিৎকারে ঘরের ভিতর থাকা রহমত আলীর ছোট ছেলে সুলতান আহম্মেদ (১৫) দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিবেশীদের ডাক-চিৎকার দিতে থাকে।
এলাকার লোক জড়ো হওয়ার আগেই মোস্তফা কামালের সঙ্গীরা নিরাপদে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ডাকাত মোস্তফা কামালকে রহমত আলীর ছোট ছেলে সুলতান জাপটে ধরে।
এরপর এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে হাজির হলে সুলতানকে ধাক্কা দিয়ে সকলের সামনে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় ডাকাত মোস্তফা কামাল সরদার।
প্রতিবেশী মাহাবুব আনোয়ার সিরু জানান, “মোস্তফা কামাল একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও পেশাদার ডাকাত।
দিন দিন তার অত্যাচারের মাত্রা বেড়েই চলেছে। চুরি, ডাকাতি, খুন-জখম সহ ধর্ষন, লুটপাটের মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসব মামলায় অনেক বার হাজত বাসও করতে হয়েছে তাকে। ইতিপূর্বে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে আমাকেও আক্রমন করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে।
সর্বশেষ রহমত আলীর বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়ে তার নিরীহ দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ছেলে বাদশাকে মারাত্মকভাবে আঘাত করে।
আমি সহ অন্যান্য প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মোস্তফাকে রক্তমাখা ধারালো দা হাতে দেখতে পাই। আমাদের দেখামাত্র সে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
আমরা তার অত্যাচারে অতিষ্ট, তার ভয়ে এলাকাবাসী সবসময় তাদের জান-মালের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। আমরা প্রশাসনের নিকট তার কঠোরতর শাস্তির জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
প্রতিবেশী হালিমা, রেবেকা ও আলী মনছুর জানান, “ডাকাত মোস্তফা কামালের পিতা আব্দুল মজিদ সরদার ৭১ এর সময় শান্তি কমিটির সেক্রেটারী ও দুর্ধর্ষ রাজাকার ছিলেন।
অপরদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা জি,এম আজিমুদ্দীনের জামাতা রহমত আলী গাজী পেশায় একজন সার্ভেয়ার ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।
স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি রাজাকার পুত্র মোস্তফা কামাল মুক্তিযোদ্ধা এ পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করতেই এমন দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে এলাকাবাসীর ধারনা।
ভুক্তভোগী রহমত আলী গাজী জানান, আমার বাড়ীতে এসে দিনে দুপুরে ডাকাতি ও আমার প্রতিবন্ধি ছেলেকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
তার মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্তমানে সে পাইকগাছা হাসপাতালে (স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) চিকিৎসাধীন আছে।
আমার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় ও বাদশার চিকিৎসার জন্য মামলা করতে দেরি হয়েছে। তবে কপিলমুনি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা এব্যাপারে অবগত আছেন।
এখনো তার অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। প্রশাসনের নিকট আমি তার সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি।”
এব্যাপারে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, আমি ঘটনা সম্পর্কে শুনেছি। এ সংক্রান্তে এখনো লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

