আপডেট নিউজ:

দি ডেইলী বার্তা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

‌পুলিশের গাড়ির লাইসেন্স নেই, নিরাপদ সড়ক কীভাবে হবে?

দারাজের পুরষ্কার, এমন অজানা লিংকে কেউ ভুলেও ক্লিক বা প্রেবেশ কিংবা শেয়ার করবেন।

ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা শিরোপা জয় আর্জেন্টিনার

সর্বোচ্চ পেশাদারী উৎকর্ষতা অর্জনে মনোযোগ দিন : সেনা সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অন্ধ বিরোধিতা করছে: ওবায়দুল কাদের

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম খোকন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

রিফাত হত্যা মামলা: মিন্নি, ফরাজি, রাব্বি, সিফাত, হৃদয় ও হাসান এর মৃত্যুদণ্ড। বাকি ৪ আসামি খালাস।

ধর্ষণ মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর গ্রেপ্তার

শিরোনাম:

চুয়াডাঙ্গার সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে যুবকের শিকলবন্দী সহযোগিতায় ফিরতে চাই স্বাভাবিক জীবনে

লাবলুর রহমানঃ সংসারের অভাব অনটন দূর করতে, দুবেলা দুমুঠো খাবারের আশায়, গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমান ঢাকায়। গ্রামে পর্যাপ্ত কাজের অভাবে পেটের দায়ে ঢাকায় সিম্ফনি কোম্পানিতে একটি ছোটোখাটো পোস্টে চাকরি নিলেন। অভাব অনটনের মধ্যথেকেই পিতামাতা ২ ভাইবোন নিয়ে কোনরকম সংসার চলত তাদের ফিরতে চাই স্বাভাবিক জীবনে।বাসার কাছেই অফিস হবার কারনে নিয়মিত পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করতেন।

চুয়াডাঙ্গার ছোটশলুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে যুবকের শিকলবন্দী
চুয়াডাঙ্গার ছোটশলুয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে যুবকের শিকলবন্দী

গত কোরবানি ঈদের ৩দিন পর অর্থাৎ ৪র্থ দিন। ঢাকার কোনাবাড়ী, মৌচাক এলাকায় যথারীতি অফিসে যাবার পথে রাস্তা পার হতে গিয়ে হঠাৎ ঘটে মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। বিষাদময় হয় জীবন। দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মারাত্মক জখম হন তিনি। ভর্তি করা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চিকিৎসকের পরামর্শে তার বাম পা কেটে ফেলতে হয়। নুন আনতে পান্তা ফুরায় যে সংসারে ঢাকা শহরের মত স্থানে তার চিকিৎসা ব্যয়বহন কে সংসার চালানো কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়ে। কোনরকম বিভিন্ন মানুষের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে এবং নিজের স্বর্বস্ব চিকিৎসায় ব্যয় করে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য হন। গ্রামে আসেন প্রায় ১ বছর হল।সদা- হাস্যজ্জ্বল টগবগে যুবক এক পা হারিয়ে এখন শিকলবন্দী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ফিরতে চাই স্বাভাবিক জীবনে।

বলা হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ছোটশলুয়া পূর্বপাড়ার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে আকিদুল ইসলাম। বাবা আব্দুল কুদ্দুস একজন দিনমজুর। অন্যের ক্ষেতে শ্রম বেঁচে সংসারের হাল ধরেছেন। বড়মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। মা-বাবা প্রতিবন্ধী ছেলে ও তার ছোট ভাই। ছোটছেলে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। ৪ জনের সংসার প্রতিবন্ধী ছেলের চিকিৎসা ব্যয়, সংসার, চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

চতুরদিকে বাঁশবাগান তার মাঝখানে ছোট্ট একটি ঝুপড়ি ঘর সেখানেই আপাতত বাস করছেন। নিজের জায়গা জমি বলতে কিছুই নেই।প্রতিবন্ধী ওই যুবকের এখন মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মাঝে মাঝে স্মৃতিশক্তি লোপ পায় আবার মাঝে মাঝে স্বাভাবিক আচরণ করছেন তাই ফিরতে চাই স্বাভাবিক জীবনে।তার মায়ের সাথেও মাঝে মাঝে মারমুখী আচরন করে থাকে।মা তো মা ই হয় যার তুলনা সে নিজেই। শত যন্ত্রনার মাঝেও মায়ের বিন্দুমাত্র বিরক্তির লেশমাত্র নেই। আগলে রেখেছেন স্নেহভরা ভালবাসায়।মায়ের অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে গিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে এই প্রতিবেদকের কাছে বলেন,বাবা আমার ছেলেকে নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১ বছর ভূগছি।নিজেদের সংসারই চলে না তারপর ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে খুব কষ্ট হয়। সংসারে মাত্র একজন উপায়(উপার্জন) করে। শাক ভাত খেয়ে কোনরকম বেঁচে আছি।এতদিন নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। কারো দারস্থ হয় নি।খুব খারাপ লাগে কারো কাছে হাতপেতে নিতে। কিন্তু আল্লাহ আমাদের কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছে।

একদিকে অভাগী সংসার অন্যদিকে ছেলের চিকিৎসা ব্যয়।নিজের সন্তানকে তো ধুঁকে ধুঁকে মরতে দিতে পারিনা। আকিদুলের মূল সমস্যা এখন মাথা খারাপ(মানসিক)। মাঝে মাঝে ভূল কথাবার্তা বলে আবার মাঝে মাঝে স্বাভাবিক কথা বলে। তার ছেড়ে দিলে হারিয়ে যায়। একবার যশোর থেকে নিয়ে এসেছি।তাই এখন পায়ে শিকল পরিয়ে রেখেছি।ও হয়ত উন্নত চিকিৎসা পেলে সুস্থ হতে পারে। কিন্তু এতটাকা যোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের অনেক বড়লোক (ধনী) আছে তারা যদি একটু আমাদের সহানুভূতির হাত বাড়িয়ে দেয়।তাহলে হয়তো আমার ছেলেটা পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে। আর স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবে।

এদিকে প্রতিবেশীরা জানান,ছেলেটাকে নিয়ে তারা দুর্বিষহ জীবন অতিবাহিত করছে।কোন সময় খেয়ে, না খেয়ে থাকে। এরমধ্যে ছেলের চিকিৎসা কিভাবে করবে।তার প্রসাব পায়খানা সব তার মা কেই করাতে হয়।আবার যখন সুস্থ থাকে তখন নিজে নিজেই লাঠি ভর করে সব কাজ করে।এইসব মানুষের জন্য সমাজের বিত্তবানরা ও সরকারীভাবে কোন সাহায্য সহযোগিতা করলে খুবই উপকার হবে।সকলের সদিচ্ছার প্রয়োজন। বিষয়টির প্রতি চুয়াডাঙ্গা জেলার মানবিক জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপারসহ সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা একটু সাহায্যর হাত বাড়াতে প্রতিবন্ধী এই যুবক সু চিকিৎসার মাধ্যমে ফিরে আসতে পারে স্বাভাবিক জীবনে।বেঁচে যেতে পারে একটি প্রাণ, খালি হবে না মমতাময়ী মায়ের কোল।

মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য,একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না..ও বন্ধু। চিরাচরিত এই উক্তিটিই যেন বাস্তবে রুপান্তর হয় এটাই কাম্য ওই প্রতিবেশীদের।