জীবননগর হাসাদহ তিন মহিলা মেম্বারকে পরিষদে প্রবেশে বাঁধা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও একজন মেম্বারের বিরুদ্ধে একই পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের তিনজন মহিলা মেম্বারকে পরিষদে প্রবেশে বাঁধা ও তাদেকে গালিগালাজ, পরনের কাপড় খুলে দিগম্বর করার এবং মারপিট করতে উদ্যত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার মহিলা মেম্বাররা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
হাসাদহ ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ড মেম্বার বেদেনা খাতুন, মনোয়ারা বেগম ও বলেন, আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইনলাম রবি বিশ্বাস ও নয় নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার সোহেল রানা শ্যামল পরিষদের সরকারি কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করে আসছেন।
সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যাপারে আমাদের অধিকারের কথা বললে তারা আমাদের পাত্তা দেয় না।
আমরা এক এক জন তিনটি করে ওয়ার্ডের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হলেও ইউনিয়ন পরিষদে বরাদ্দকৃত সব ধরনের প্রকল্পের কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করে আসছেন চেয়ারম্যান রবি বিশ্বাস। ফলে আমরা জনগনের জন্য কোন করার সুযোগ পাই না। ইউনিয়ন পরিষদের কোন প্রকল্পের দুর্ণীতি-অনিয়মের ব্যাপারে আমরা প্রতিবাদ করাই চেয়ারম্যান রবি বিশ্বাস ও মেম্বার শ্যামলের কাছে শত্রু হয়ে পড়েছি।
সরকারি ভাবে বরাদ্দ ভিজিএফ, ভিজিডি,বিভিন্ন ভাতা,কর্মসৃজনসহ কোন উন্নয়ন কাজে আমাদেরকে সম্পৃক্ত করা হয় না।
কিন্তু প্রতিটি কাজের বৈধতা দিকে আমাদেরকে মাস্টার রোলে সই করিয়ে নেয়া হয়। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের কথা বললেই চেয়ারম্যান সাহেব বলেন এমপি ও ডিসি সাহেব মহিলা মেম্বারদের দিয়ে কাজ করাতে নিষেধ করেছেন।
তোমরা আমার নামে নালিস করে ডিসি সাহেব কিছুই করতে পারবে না।
সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে গরিব, কর্মহীন, দুস্থদের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরন করলেও সেখানে হাসাদহ ইউনিয়নে মহিলা মেম্বারদের চেয়ারম্যান কোন ভাবেই সম্পৃক্ত রাখেনি।
মহিলা মেম্বার বেদেনা খাতুন বলেন, আমি ফেইসবুকে চেয়ারম্যান রবি বিশ্বাস ও শ্যামলের পরিষদে আমাদের সাথে কার্যক্রম নিয়ে লেখালেখি করাই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মেম্বার শ্যামল মোবাইল ফোনে হুমকি দেয়।
আমরা চেয়ারম্যান রবি বিশ্বাস ও শ্যামল মেম্বারের ব্যাপারে ইউএনও অফিসে লিখিত অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি।
এদিকে রোববার সকালে পরিষদে জরুরি মিটিংয়ের কথা বলে সচিব আসাদুজ্জামান আমাদের সেখানে নেয়।
কিন্তু আমরা তিনজন মহিলা মেম্বার পরিষদে পা রাখার সাথে সাথে মেম্বার শ্যামল চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আমাদের পরিষদে ঢুঁকতে বাঁধা দেয় এবং আমাদের পরনের কাপড় খুলে দিগম্বর করার হুমকি দেয়।
আমরা প্রতিবাদ করলে শ্যামল আমাদের মারপিট করতে তেঁড়ে আসে।
এসময় চেয়ারম্যানকে বলি শ্যামল এসব কি করছে আপনার সামনে? জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, শ্যামল তোমাদের ঠিকই করছে,তোমাদের পাঁছার ছাল তুলে দেয়া দরকার।
ডিসি, ইউএনও যার কাছে পারো বলো গিয়ে, কেউ আমার কিছুই করতে পারবে না।
পরে আমাদেরকে কোন কাজ দেবে না বলে পরিষদ থেকে বের করে দেয়।
ঘটনার ব্যাপারে মোবাইল ফোনে ইউএনও স্যারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বললে আমরা অভিযোগ দিই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মেম্বার বলেন, উভয়পক্ষের মধ্যে উচ্চ বাচ্য হয়েছে, তবে ব্যাপারটি আমরা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছি।
আমরা সবাই খারাপ কার কি বলব? মেম্বার শ্যামলের কথা একটু খারাপ হয়েছে। তারপরও আমরা এক জায়গায় থাকি, বিষয়টি মিটিয়ে ফেলায় ভাল।
শ্যামল মেম্বার বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভাযোগ তোলা হয়েছে তা মোটেও সত্য নয়। তবে তারা আমাকে চাল চোর বলেছে,তাই চাল চুরির প্রমাণ চেয়েছি।
চেয়ারম্যান রবি বিশ্বাস বলেন, মহিলা মেম্বারদের হুমকি দেয়া, মারতে যাওয়া ও পরিষদ থেকে বের করে দেয়া কোনটাই সত্য নয়।
তবে তারা আমাদেরকে চাল চোরসহ নানা ভাবে অপবাদ দিয়েছে, আমরা তাদের কাছে চাল চুরিসহ অন্যান্য ব্যাপারে প্রমান দিতে বলেছি।
এ ব্যাপারে হাসাদহ ইউপি সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, দু,পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
শ্যামল মেম্বার যা বলেছে তা ঠিক হয়নি। কারণ তারাও মেম্বার। তবে ঘটনাটি নিস্পত্তির জন্য মহিলা মেম্বারদের ডাকি। কিন্তু তারা আসেনি।
এখনও আপস নিস্পত্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

