আপডেট নিউজ:

দি ডেইলী বার্তা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা।

‌পুলিশের গাড়ির লাইসেন্স নেই, নিরাপদ সড়ক কীভাবে হবে?

দারাজের পুরষ্কার, এমন অজানা লিংকে কেউ ভুলেও ক্লিক বা প্রেবেশ কিংবা শেয়ার করবেন।

ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা শিরোপা জয় আর্জেন্টিনার

সর্বোচ্চ পেশাদারী উৎকর্ষতা অর্জনে মনোযোগ দিন : সেনা সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অন্ধ বিরোধিতা করছে: ওবায়দুল কাদের

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম খোকন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

রিফাত হত্যা মামলা: মিন্নি, ফরাজি, রাব্বি, সিফাত, হৃদয় ও হাসান এর মৃত্যুদণ্ড। বাকি ৪ আসামি খালাস।

ধর্ষণ মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর গ্রেপ্তার

শিরোনাম:

পুরানো জনপ্রিয় গানগুলো ফিরছে নতুন শিল্পীর কণ্ঠে

সংগীতাঙ্গনে কদর বেড়েছে রিমেক গানের। এক সময়ের আলোচিত পুরানো জনপ্রিয় গানগুলো এখন তৈরি হচ্ছে নতুন সংগীতায়োজনে। সহজ কথা ও সুরের নতুন গান সাড়া না ফেললেও ঘুরেফিরে আলোচনায় আসছে এসব পুরানো গানগুলো। সহজে জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভে নতুন শিল্পীরাও মনোযোগী হয়ে উঠেছেন রিমেকে।

পুরানো জনপ্রিয় গানগুলো ফিরছে নতুন শিল্পীর কণ্ঠে
মিউজিক ভিডিওর দৃশ্যে মারিয়া নূর ও ইমরান।

রিমেক গানে সবচেয়ে বেশি কণ্ঠ দিয়েছেন এই সময়ের আলোচিত গায়ক ইমরান মাহমুদুল। ‘তুমি আমার জীবন’, ‘অনেক সাধনার পরে’, ‘পৃথিবীতে সুখ বলে যদি’ ও ‘হৃদয়ের আয়না’ গানগুলো তারই কণ্ঠে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি বাংলা সিনেমা ‘প্রেমের প্রতিদান’ এর ‘আমার মনের আকাশে আজ জ্বলে শুকতারা’ গানটি রিমেক করেছেন তরুণ এ শিল্পী। নজরুল ইসলাম বাবুর লেখা এ গানের সুর ও সংগীত শেখ সাদী খানের। মূল সুর ঠিক রেখে গানটিতে কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন করে সংগীতায়োজন করেছেন ইমরান নিজেই। ভিডিওতে ইমরানের সঙ্গে মডেল হয়েছেন মারিয়া নূর। ভিডিও নির্মাণ করেছেন সৈকত রেজা। অনুপম মিউজিক ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছে গানটি। ভারতের প্রখ্যাত শিল্পী রতন কাহারের লেখা ‘বড় লোকের বেটি’ গানটি ১৯৭৬ সালে গেয়েছিলেন স্বপ্না চক্রবর্তী। সম্প্রতি নতুনভাবে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন জেকে মজলিশ ও বিন্দু কনা। ঈদ উপলক্ষে আরটিভি মিউজিকে মুক্তি পেয়েছে।

আরও পড়ুন: কি অবস্থায় আছে বাংলাদেশ চলচিত্র শিল্প?

কয়েকদিন আগে ১৯৯১ সালে প্রকাশিত সাইফ ইসলামের ফিতা ক্যাসেটের ‘কখনো জানতে চেও না’ আলোচিত গানটি নতুন সংগীতায়োজনে গেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী জুয়েল মোর্শেদ। সংগীতায়োজন করেছেন নাভেদ পারভেজ। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সালমান শাহের ‘তোমাকে চাই’ সিনেমার টাইটেল গান ‘তোমাকে চাই’। এতে তখন কণ্ঠ দিয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর ও কনকচাঁপা। অমর নায়কের ৪৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন আবহে প্রকাশ পেয়েছে ‘তোমাকে চাই’ গানের রিমেক। গানটি কাভার করেছেন সজল মিত্র রিচার্ড ও মডেল হয়েছেন লারা লোটাস।

ঢাকাই ছবিতে এ পর্যন্ত রিমেক গান সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছেন নির্মাতা মালেক আফসারী। তার শেষ ছবি ‘পাসওয়ার্ড’-এ ১৯৯৩ সালের ‘পাগল মন’ সিনেমার ‘পাগল মন রে’ গানটি ব্যবহার করেছেন। এ নিয়ে মামলাও করেন কণ্ঠশিল্পী দিলরুবা খান। অবশ্য পরে বিষয়টি আপোষ হয়। ১৯৮৯ সালের ‘অবুঝ হৃদয়’ ছবির গান ‘তুমি আমার জীবন’ ব্যবহৃত হয়েছে চলতি বছরের ‘বীর’ ছবিতে। ১৯৯৯ সালের ‘ভালোবাসি তোমাকে’ ছবির ‘অনেক সাধনার পরে’ ব্যবহৃত হয়েছে ২০১৮ সালের ‘নিয়তি’তে। শাহীন সুমনের ‘গ্যাংস্টার’ ছবির জন্য এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে ‘হৃদয়ের আয়না’ ছবির গান, শামীম আহমেদ রনির ‘৭১-এর ইতিহাস’ ছবির জন্য রেকর্ড করা হয়েছে শচীন দেব বর্মনের গান ‘রঙিলা’, বদিউল আলম খোকনের ‘আগুন’ ছবির জন্য ‘লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী’সহ প্রথম সারির সব নির্মাতার ছবিতেই হচ্ছে রিমেক গান।

ইমরান বলেন, আমি শিল্পী। বিশেষ করে প্লেব্যাক শিল্পীরা সংগীত পরিচালক ও নির্মাতাদের ওপর নির্ভরশীল। বেশিরভাগ সময় দেখা যায় রেকর্ডিংয়ের আগে পর্যন্ত জানি না গানের কথা কী, সুর কেমন। রিমেক গানগুলো প্রথম পছন্দ থাকে নির্মাতাদের। তারা সংগীত পরিচালককে বলেন। চলচ্চিত্রে নির্মাতার চাহিদা অনুযায়ী-ই সংগীত পরিচালক গান তৈরি করেন। এ ক্ষেত্রে শিল্পীর বলার কিছু নেই। তবে হ্যাঁ, বিশ্বব্যাপী যেহেতু রিমেকের জোয়ার চলছে সেখানে আমাদের পিছিয়ে পড়া উচিত নয় বলে মনে করছি।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া সংগীত পরিচালক ইমন সাহা বলেন, সহজে জনপ্রিয়তা পাওয়ার লোভে সবাই এই পথে হাঁটছে। পুরানো জনপ্রিয় গানগুলো রিমেক করে বাজারে ছাড়ছে। তবে এটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য মঙ্গল নয়। এভাবে চলতে থাকলে গীতিকার, সুরকারদের মৌলিক গান করার ইচ্ছা কমে যাবে। একটা সময় দেখা যাবে শ্রোতারা আর রিমেক গান পছন্দ করছে না, অন্যদিকে ভালো মানের মৌলিক গানও তৈরি হচ্ছে না। আমাকে বেশ কয়েকজন নির্মাতা রিমেক গান করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তাদের বুঝিয়ে মৌলিক গান করিয়েছি। অন্য সুরকারদেরও এটা করা উচিত। নইলে একটা সময় চলচ্চিত্র সংগীতের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে।

#বিনোদন